https://uv.glucinasatori.com/i3nqn2X4mfHvu/ শুভশ্রীকে আবেগঘন খোলা চিঠি দেবের

শুভশ্রীকে আবেগঘন খোলা চিঠি দেবের

সম্প্রতি পরিচালক হিসেবে নিজের প্রথম আত্মপ্রকাশের অভিজ্ঞতা এবং সেই যাত্রায় অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলীর নিঃশর্ত সমর্থনকে cvs করে এক আবেগঘন খোলা বার্তা দিলেন অভিনেতা-পরিচালক দেব। চিঠির ছত্রে ছত্রে উঠে এসেছে কৃতজ্ঞতা, কেরিয়ারের ওঠাপড়ার কথা এবং একজন মানুষ হিসেবে শুভশ্রীর বিবর্তনের কথা। চিঠির শুরুতেই দেবের স্মৃতিতে উঠে এসেছে সেই কঠিন ও অনিশ্চিত সময়ের কথা, যখন তিনি পরিচালক হিসেবে নিজের কেরিয়ারের প্রথম বড় পদক্ষেপ নিচ্ছিলেন। দেব লিখেছেন— যখন তিনি প্রথমবার ছবি পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন, তখন চারপাশের পরিস্থিতি মোটেই মসৃণ ছিল না। এমনকি দুর্গাপূজার মতো টলিউডের সবচেয়ে বড় উৎসবের মরসুমে ছবিটি মুক্তি পাওয়ার ক্ষেত্রেও দেখা দিয়েছিল চরম অনিশ্চয়তা ও নানা বাধা। সেই অনিশ্চয়তার দিনগুলোতেও যে মানুষটি কোনও দ্বিধা না রেখে তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন, তিনি শুভশ্রী। দেবের কথায়, “যখন আমাকে দুর্গাপূজার উইন্ডোতে সিনেমা মুক্তি দিতে পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছিল না, তুমি আমার পাশে এসে দাঁড়ালে এবং চিত্রনাট্য, সিনেমার নাম কিংবা এই ছবিটার শেষ পরিণতি কী হবে—তার কিছুই না জেনে #DeSu7-এ হ্যাঁ বললে।” কেবল কাজের খাতিরেই নয়, একজন ব্যক্তি ও শিল্পী হিসেবে শুভশ্রীর মানসিক পরিপক্বতা দেবকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে শুভশ্রীকে চিনলেও, ‘#DeSu7’-এর কাজের মাধ্যমে তাঁকে যেন নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন পরিচালক দেব। চিঠিতে শুভশ্রীর প্রশংসা করে তিনি লেখেন— একজন অভিনেতা হিসেবেই নয়, মানুষ হিসেবেও শুভশ্রী যেভাবে সময়ের সাথে সাথে ম্যাচিউরড বা পরিণত হয়েছেন, তা সত্যিই অতুলনীয়। কীভাবে তিনি নিজের পেশাগত দায়িত্ব ও ব্যক্তিজীবনের মধ্যে এক অনবদ্য ভারসাম্য বজায় রেখে চলেন, সে কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন দেব। আর এই দীর্ঘ পথচলার পরও তাঁর মাটির কাছাকাছি থাকা বা বিনয়ী স্বভাবকে অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
টলিউডে দেব ও শুভশ্রীর পথচলা শুরু হয়েছিল প্রায় একই সময়ে। বাণিজ্যিক বাংলা ছবির স্বর্ণযুগে ‘চ্যালেঞ্জ’, ‘পরাণ যায় জ্বলিয়া রে’, ‘রোমিও’ কিংবা ‘খোকাবাবু’-র মতো একের পর এক হিট ছবি দেওয়া এই জুটির অনস্ক্রিন ম্যাজিক আজও দর্শকদের কাছে অমলিন। মাঝে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও যখন এই ‘দেশু’ জুটি ৭ নম্বর ছবির জন্য হাত মিলিয়েছেন, তখন নস্টালজিয়ার ঢেউ ওঠাই স্বাভাবিক। দেব স্বীকার করেছেন, পরিচালক হিসেবে তাঁর প্রথম কাজ যদি তাঁকে ছবির বাইরে বাড়তি কিছু এনে দিয়ে থাকে, তবে তা হলো শুভশ্রীর মতো বন্ধুদের বিশ্বাস। কোনো দৃশ্যপট কিংবা পরিচালনা শৈলী না জেনেও স্রেফ দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ভিত্তি করে ভরসা রাখার এই অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে অমূল্য। চিঠির শেষাংশে দেব শুভশ্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ভক্তদের হৃদয় জুড়ে আজও ‘#DeSu’-এর ভালোবাসা ও আবেগ টিকিয়ে রাখার জন্য। তিনি আশাবাদী যে, তাঁদের এই যৌথ প্রচেষ্টা এবং পারস্পরিক বিশ্বাস পর্দায় আবার এক নতুন জাদু সৃষ্টি করবে। পরিচালক দেবের এই আন্তরিক চিঠিতে কেবল একটি সিনেমার প্রচার লুকিয়ে নেই, বরং লুকিয়ে রয়েছে দু'জন পেশাদার শিল্পীর প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, যা বাংলা ইন্ডাস্ট্রির প্রেক্ষাপটে এক দারুণ ইতিবাচক নজির গড়ে তুলল।

Post a Comment

Previous Post Next Post